রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতা

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসার দিকে নজর ধনী তুর্কিদের

চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের ধনীদের মধ্যে গোল্ডেন ভিসার চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের ধনীদের মধ্যে গোল্ডেন ভিসার চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর মাধ্যমে তারা সম্পদ ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে, তুর্কি ধনীদের প্রত্যাশিত অভিবাসন গন্তব্যের শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অন্যতম শহর দুবাই। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনে বৈশ্বিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্টনসের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে তুরস্কে সার্চ ইঞ্জিন গুগলে ‘গোল্ডেন ভিসা’ কি ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

অ্যাস্টনস সাইপ্রাসের প্রধান ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক ডেনিস ক্রাভচেঙ্কো বলেন, ‘গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা এমনটা দেখেছিলাম। এভাবে সম্পদে বৈচিত্রায়ন ও পরিবারের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন ধনীরা।’

ডেনিস ক্রাভচেঙ্কো আরো জানান, গত জানুয়ারিতে তুর্কিরা বিদেশে সম্পত্তি কিনতে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করেছেন। যার বড় অংশ ছিল গোল্ডেন ভিসাসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ।

গুগল ট্রেন্ডস বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তুরস্কে গোল্ডেন ভিসার প্রতি আগ্রহ আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।

অবশ্য তুরস্ক থেকে করা বিনিয়োগের বড় একটি অংশ যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ গ্রিসে, যেখানে ২০২৪ সালে গোল্ডেন ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ১৫ শতাংশই ছিলেন তুর্কি। গত বছর তারা দেশটিতে মোট ৫৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছেন। তবু এখন দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের ক্ষেত্রে দুবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসা স্কিমে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, দক্ষ পেশাজীবী ও সম্পত্তি মালিকদের ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি সুবিধা দেয়া হয়। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি, শক্তিশালী অর্থনীতি ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তুর্কি বসবাস করায় এখন উপসাগরীয় শহরটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য অভিবাসন বিশ্লেষকদের।

অ্যাস্টনস আরো বলছে, গ্রিসের মতো ইউরোপের কিছু দেশ গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামে সংশোধন আনছে। এতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা তুর্কি বিনিয়োগকারীদের দুবাইমুখী হওয়ার আরেকটি কারণ। এছাড়া দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজার এখনো লন্ডন বা প্যারিসের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং বিদেশীদের মালিকানাসংক্রান্ত আইন আগের তুলনায় বিনিয়োগবান্ধব।

গ্রিসের কিছু অঞ্চলে মাত্র আড়াই লাখ ইউরো বিনিয়োগ করে গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়। অ্যাস্টনস সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিক সরকার শিগগিরই প্রোগ্রামটি বন্ধ করার চিন্তা করছে। তাই চলতি বছর হতে পারে আবেদনের শেষ সুযোগ। এ আশঙ্কায় অনেক তুর্কি বিনিয়োগকারী এখন ইউএই, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছেন। এসব দেশে রিয়েল এস্টেট বা ব্যবসায় বিনিয়োগের ভিত্তিতে রেসিডেন্সি ভিসা দেয়া হয়।

অ্যাস্টনস জানিয়েছে, বর্তমান অস্থিরতার আগে থেকেই তুরস্কে গোল্ডেন ভিসার প্রতি আগ্রহ বাড়ছিল। তুরস্কের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে দেশটি ছেড়ে গেছে ৭ লাখ ১৪ হাজার মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ২৫-২৯ বছর বয়সীদের হার সবচেয়ে বেশি, ১৫ শতাংশ।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তুর্কির সংখ্যাও বাড়ছে। ২০১৪ সালের ১০ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৪০ হাজারে পৌঁছে। এদের অনেকেই দক্ষ পেশাদার হিসেবে দুবাইয়ে বসবাস করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুর্কিদের বৈদেশিক বিনিয়োগের এ ঊর্ধ্বগতি দেখায় কীভাবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী ধনী শ্রেণীর অভিবাসনের ধারা পাল্টে দিতে পারে।

আরও